ePaper

'রাশিয়ার ভয়ে' নেটোতে যোগ দিচ্ছে ফিনল্যান্ড

'রাশিয়ার ভয়ে' নেটোতে যোগ দিচ্ছে ফিনল্যান্ড
সারাবিশ্ব

এই জোটে যোগদানের জন্য ফিনল্যান্ডের আবেদন কয়েক মাস ধরে আটকে রেখেছিল তুরস্ক। তাদের অভিযোগ ছিল ফিনল্যান্ড "সন্ত্রাসীদের" সমর্থন করে।

প্রতিবেশী দেশ সুইডেনও গত মে মাসে একই সময়ে নেটোতে যোগদানের জন্য আবেদন করেছিল। একই অভিযোগ তুলে আঙ্কারার সরকার তা এখনও আটকে রেখেছে।

তুরস্কের অভিযোগ - তুরস্কের বিদ্রোহী কুর্দি গোষ্ঠীগুলিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে সুইডেন এবং স্টকহোমের রাস্তায় তাদের বিক্ষোভ করার অনুমতি দিয়েছে।

নেটো’য় যেকোনো সম্প্রসারণের জন্য এর সবগুলো সদস্য রাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।

তুর্কী সরকার তার বাধা তুলে নেয়ার পর ফিনল্যান্ড এখন জুলাই মাসে লিথুয়ানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য নেটোর পরবর্তী শীর্ষ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটের অন্তর্ভুক্ত হবে।

নেটো মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনবার্গ এক টুইটার পোস্টে বলেছেন: "আগামী দিনগুলিতে আমি নেটো সদর দফতরে ফিনল্যান্ডের পতাকা উত্তোলনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছি। একসাথে থাকলে আমরা আরও শক্তিশালী এবং নিরাপদ হবো।"

তুরস্কের ভোটের পর এক বিবৃতিতে ফিনিশ সরকার বলেছে, নেটোতে যোগ দেয়ায় দেশটির নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার উন্নতি হবে।

বিবিসি সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, ফিনল্যান্ডের সদস্যপদ অনুমোদনের ঘটনা নেটোর সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলির একটি।

নেটোর প্রতিষ্ঠার নীতিমালাগুলির অন্যতম হলো যৌথ প্রতিরক্ষার নীতি - যার অর্থ, নেটোর কোন একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ হলে সেটা জোটের সকল সদস্যের ওপর হামলা বলে বিবেচিত হবে।

এখন কেন যোগদান?

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য ফিনল্যান্ডের নেটোতে যোগদান একটি বড় ধরনের কৌশলগত আঘাত।

ফিনল্যান্ডের সঙ্গে রাশিয়ার ১,৩৪০ কি.মি. দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

রাশিয়া গত বছর ইউক্রেনে তার সেনাবাহিনী ঢুকিয়ে দিয়েছিল এই প্রত্যাশায় যে এই পদক্ষেপ নেটোর পূর্বমূখী সম্প্রসারণ রোধ করবে এবং পশ্চিমা জোটকে দুর্বল করবে। কিন্তু বাস্তবে ফল হয়েছে উল্টো।

ফিনল্যান্ডের নেটোতে যোগদানের মাধ্যমে রাশিয়ার বাল্টিক সাগরে ঢোকার পথ আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

ইউক্রেনে ভ্লাদিমির পুতিনের পদক্ষেপ উত্তর ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার অনুভূতিকে চুরমার করে দিয়েছে, যার ফলে সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলি অরক্ষিত বোধ করছে৷

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের ফলে ফিনিশ জনমত আমূল বদলে গেছে। প্রায় রাতারাতি নেটোর সদস্যপদের প্রতি ফিনিশ জনগণের সমর্থন এক-তৃতীয়াংশ থেকে প্রায় ৮০% বৃদ্ধি পেয়েছে।

তারা এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে নেটোতে যোগ দিলে রাশিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার ভাল সুযোগ রয়েছে।

ফিনল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অ্যালেকজান্ডার স্টাব বলছেন, ২৪শে ফেব্রুয়ারি রুশ সৈন্যরা ইউক্রেন আক্রমণ করার সাথে সাথে নেটো জোটে যোগ দেয়ার ব্যাপারে তার দেশের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

ইউক্রেনের ঘটনাবলী ফিনল্যান্ডের অনেকের কাছে অতি পরিচিত এক স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। ১৯৩৯ সালের শেষের দিকে সোভিয়েত বাহিনী ফিনল্যান্ড আক্রমণ করেছিল।

তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ফিনিশ সেনাবাহিনী প্রচণ্ড প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যদিও সোভিয়েত বাহিনী সংখ্যার দিকে থেকে ছিল অনেক বড়।

ঐ যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিনল্যান্ড দখল করতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিনল্যান্ডের ১০% ভূখণ্ড সোভিয়েত দখলে চলে যায়।

হেলসিঙ্কি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ইরো সারক্কা বলছেন, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন ফিনিশদের অতীত স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।