ePaper

শিক্ষার মানোন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার মানোন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগের ফলে বিগত বছরগুলোতে দেশের শিক্ষাখাতে সংখ্যাগত দিক দিয়ে প্রসার ঘটেছে। দেশের বিশাল সংখ্যক তরুণ সমাজকে শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে সংখ্যাগত প্রসারের এ উদ্যোগ গ্রহণ অপরিবহার্য ছিলো। কিন্তু, শিক্ষার মানোন্নয়নকেই এখন সরকারের সবচেয়ে অগ্রাধিকের বিষয়। এজন্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলাসহ একাডেমিক ও অবকাঠামোগত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান, উদ্ভাবন ও গবেষণার পরিবেশ তৈরি, ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়া কোলাবেরশনবৃদ্ধিসহ বহুমুখি পদক্ষেপগ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ইউজিসি অডিটরিয়ামে একটি বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. দীপু মনি আজ (বৃহস্পতিবার) একথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি। ইউজিসি’র সাবেক চেয়ারম্যান ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে সম্মাননীয় অতিথি ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম-এর উপাচার্য ড. অনুপম সেন আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উদ্ভাবন ও গবেষণা কার্যক্রম উৎসাহিত করতে গবেষণাখাতে বাজেট বরাদ্দ দিগুণ করা হয়েছে। শিক্ষাখাতের সার্বিক বাজেটও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি শিক্ষার বাজেট বৃদ্ধির চেয়ে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে শিক্ষার উন্নয়নে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলে তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন। 

উচ্চশিক্ষার মানোন্ননে তিনি সক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি না করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আহবান জানান। তিনি বিশ্বায়ন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষা বিস্তারের ওপর জোর দেন। অন্যথায়, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। তিনি পরিবর্তনের সাথে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পুরোনো কোর্স কারিকুলাম বদলে আউটকাম বেইজড এডুকেশন ক্যারিকুলাম অনুসরণের আহবান জানান। 

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নের সময় অবকাঠামোগত উন্নয়নের সাথে সাথে একাডেমিক লক্ষ্য সুস্পস্ট করার আহবান জানান। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে তিনি ইউজিসিকে আহবান জানান। এছাড়াও, তিনি ইউজিসিকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী গ্ৰ্যাজুয়েট ও কোর্স অনুমোদনের পরামর্শ দেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪৪ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে, যা পৃথিবীর অনেক দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। এ বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে আধুনিক শ্রমবাজার উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান। দেশে বর্তমানে পাবলিক ও প্রাইভেট ব্যবস্থাপনায় ১৬৮টি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। এসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪৪ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কমিশনের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউজিসি’র কাঠামো, আইনি ও জনবল আজকের ১৬৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করতে পর্যাপ্ত নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ইউজিসি’র সক্ষমতা, দক্ষতা এবং আইনি ক্ষমতা প্রদান এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ একান্ত প্রয়োজন। 

ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসি সদস্য ও সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের। ইউজিসি’র বর্তমান ও সাবেক সদস্যবৃন্দ, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি’র বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।